জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে এই অনির্ধারিত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্কের জেরে নির্ধারিত নতুন সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে, কেবল চারটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিরোধী দল যদি সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, তবে জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী তাদের সভাপতি পদ দিতে আপত্তি নেই। এজন্য বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি দিতে হবে। সরকারি দলের মতে, সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা না করা এবং একই সঙ্গে দাবি তোলা বিপরীতমুখী অবস্থান।
অন্যদিকে বিরোধী দল এই শর্ত মানতে নারাজ। বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, একটি কমিটিতে যোগ দেওয়ার শর্তে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ পাওয়ার প্রস্তাব তারা সঠিক মনে করেন না। তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে তারা প্রতিনিধি দেবেন না। তবে জুলাই সনদ অনুযায়ী মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি কমিটির মধ্যে প্রায় ১০টির সভাপতি পদ তাদের পাওয়ার কথা। এর সঙ্গে সনদে সরাসরি উল্লেখ করা চারটি কমিটি যোগ করলে বিরোধী দলের মোট ১৪টি কমিটির সভাপতি পদ পাওয়ার কথা।
জাতীয় সংসদে বর্তমানে ১১টি বিষয়ভিত্তিক স্থায়ী কমিটি এবং ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এখন পর্যন্ত ১৫টি স্থায়ী কমিটি গঠিত হয়েছে, যার মধ্যে কেবল সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলের কাছে রয়েছে। জুলাই সনদে সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতির দায়িত্ব বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি পদগুলো সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছিল। অন্যদিকে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে জাতীয় সংসদ।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানান, সরকারি দল ঐক্যবদ্ধভাবে সংবিধান সংশোধন করতে চায় এবং বিগত দিনে অন্য কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার রেওয়াজ নেই। তবে বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটিতে নাম দিলে তাদের দাবি অনুযায়ী পদ বণ্টনে সরকার রাজি। সংসদে বৈষম্য প্রতিষ্ঠিত হোক, তা চান না উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংসদ চলবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে এবং সংবিধান সংশোধিত হলে পদ বণ্টন করা হবে। মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটিগুলোতে আসনের অনুপাতে বিরোধী দল সভাপতি পদ পাবে, তবে এর জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া জরুরি। সবশেষে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল দেশের স্বার্থে উভয় পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার এবং প্রয়োজনে রুদ্ধদ্বার আলোচনার আহ্বান জানান।

















