নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভোতেকুশ নদীতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ফলে সৃষ্ট বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনো পাঁচ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় শতাধিক ভারতীয় নাগরিকসহ অন্তত ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিকের নাম রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার সকালে, যখন তিব্বতের দিক থেকে ভোতেকুশ নদীর মাধ্যমে প্রবল পানির স্রোত এসে নেপালের ঘনবসতিপূর্ণ গ্রামগুলোতে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই নদীর পানি ও কাদা শত শত মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে নেপাল পর্যটন বোর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সুরক্ষায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বন্যায় নেপালের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়াগড়ি, চিলিমে, ত্রিশুলি ৩এ, ত্রিশুলি ৩বি সাবস্টেশন এবং ত্রিশুলি ও দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ মোট ছয়টি প্রধান প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। উদ্ধার অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নেপাল সেনাবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীদের দুর্ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।

















