দীর্ঘ চার বছর ধরে পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়ার প্রতিবাদে অভিনব কর্মসূচি পালন করছেন আল আমিন নামের এক ব্যক্তি। টাকা আদায়ের দাবিতে তিনি দেনাদার শাহরিয়ার পলাশের বাড়ির সামনে ব্যানার ও ফেস্টুন ঝুলিয়ে প্রতীকী অনশনে বসেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর শহরের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (আরএন) সড়ক এলাকার ‘রওনক সানফ্লাওয়ার’ টাওয়ারের সামনে তাকে এই কর্মসূচিতে দেখা যায়। আল আমিন জানান, তিনি বুধবার বেলা আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে এই অনশন শুরু করেন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। তার অনশনের পাশে একটি সাউন্ড বক্সে ঘটনার বিবরণ সংবলিত রেকর্ডিং বাজানো হচ্ছিল, যা স্থানীয় পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
আল আমিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। প্রবাসে থাকাকালে মিজানের মাধ্যমে শাহরিয়ার পলাশের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পলাশ একটি দোকান বিক্রি করবেন জানালে, চার বছর আগে আল আমিন মিজানের মাধ্যমে তাকে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা নেওয়ার পর পলাশ দোকানটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার বদলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে আল আমিন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই দোকানের মালিকানা নিয়ে শরিকদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে এবং পলাশ এককভাবে এর মালিক নন। বিষয়টি জানার পর তিনি টাকা ফেরত চাইলে পলাশ নানা কৌশলে তাকে ঘোরাতে থাকেন।
নিজের বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে আল আমিন বলেন, সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে বর্তমানে চরম অর্থকষ্টে আছেন। বারবার যোগাযোগ করেও টাকা ফেরত না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই তিনি এই অনশনের পথ বেছে নিয়েছেন।
টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দেনাদার শাহরিয়ার পলাশ সাংবাদিকদের জানান, শরিকদের সমস্যার কারণে দোকানটি আল আমিনের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। তিনি দাবি করেন, দোকানটি অন্য কোথাও বিক্রি করার চেষ্টা চলছে এবং তা বিক্রি হলেই আল আমিনের পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুম খান জানান, তারা কর্মসূচির বিষয়টি শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগী আল আমিন এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

















