তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতায় নদীশাসন, ড্রেজিং এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের মতো ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের প্রস্তাবনায় ১১০ কিলোমিটার নদীশাসন, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং এবং ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৬৭টি গ্রোয়েন ও স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিস্তা নদীকে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উজানে বাঁধ নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে যায়, যা সেচ কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। অন্যদিকে, বর্ষাকালে উজানে অতিবৃষ্টির ফলে আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙনের মতো দুর্যোগ দেখা দেয়।
নদীভাঙন প্রতিরোধের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলায় নদীভাঙন রোধে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২২২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪২ দশমিক ১৭ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
তিস্তা নদীকেন্দ্রিক সমন্বিত উন্নয়নের জন্য পরিচালিত সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রকল্পটির কারিগরি ও আর্থিক বিভিন্ন দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। মহাপরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ ও সেচ সুবিধা বাড়বে, যার ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হবে। একইসঙ্গে এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস, নৌযোগাযোগের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

















