প্রান্তিক এবং জলবায়ুর ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাচ্ছেন বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান। সোমবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। এশিয়ার নোবেলখ্যাত এই সম্মাননা প্রাপ্তির তালিকায় রুনা খানের পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের কূটনীতিক ও আইনজ্ঞ টমি কোহ এবং মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী বো চি রয়েছেন।
র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এ বছরের বিজয়ীদের এমন সব কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে যা র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের নেতৃত্বের সাথে সম্পর্কিত চিরস্থায়ী মূল্যবোধকে প্রতিফলিত করে। এর মধ্যে রয়েছে নিঃস্বার্থ জনসেবা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং মানুষকে নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়ে তোলার সক্ষমতা প্রদান। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। এই পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমেই এ বছরের র্যামন ম্যাগসাইসাই উৎসবের সূচনা হলো।
রুনা খান ২০০২ সালে সামাজিক উদ্দেশ্যেভিত্তিক সংস্থা (এসপিও) হিসেবে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সংস্থাটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চরম দরিদ্র, বৈষম্যের শিকার এবং পরিবেশগত সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মর্যাদা ও আশা নিয়ে বেঁচে থাকার সমান সুযোগ তৈরিতে রুনা খানের এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ ফিলিপাইনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট র্যামন ম্যাগসাইসাই এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। তার স্মৃতি ও আদর্শকে ধরে রাখতে একই বছর র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন গঠিত হয় এবং ১৯৫৮ সাল থেকে নিয়মিত এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।

















