জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার ভার্চ্যুয়াল শুনানির মাধ্যমে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এই নির্দেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বনানী থানায় দায়ের করা এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম।
তদন্ত কর্মকর্তা গত ২ জুলাই খায়রুল হককে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে ৬ জুলাই শুনানির তারিখ নির্ধারিত থাকলেও মামলার নথি উপস্থাপন না হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। এরপর ৮ জুলাই ভার্চ্যুয়াল শুনানির তারিখ ধার্য করা হয় এবং আজ শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মহাখালীর সেতু ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে শাহবাগের দিকে যাওয়ার সময় তাঁদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ এবং ককটেল ও হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। এই ঘটনায় উজ্জ্বল মিয়া বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা-সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় প্রদান করেছিল। গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর আগে পৃথক আটটি মামলায় জামিন পেলেও বনানী থানার এই নতুন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হলো।

















