বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের গোপীনাথপুর এলাকায় শুক্রবার সকালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ফিরোজা বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। তিনি শিবগঞ্জের গোবিন্দপুর গ্রামের প্রয়াত নিজামউদ্দীন সরকারের স্ত্রী ছিলেন। সকালে মেয়ের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার পর পথেই এই দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী তার স্ত্রী নাজমা আরা বেগমকে নিয়ে সরকারি সফরে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যাচ্ছিলেন। সকাল পৌনে নয়টার দিকে তাদের বহনকারী গাড়িটি গোপীনাথপুর এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ফিরোজা বেগম রাস্তা পার হওয়ার জন্য সামনে চলে আসেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে চালক দ্রুত ব্রেক কষলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ধানখেতে পড়ে যায়। এতে প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী আহত হন এবং বৃদ্ধা ফিরোজা গুরুতর আঘাত পান। তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত ফিরোজা বেগমের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার ছোট ছেলের স্ত্রী রেশমা বেগম জানান, হাসিমুখেই তিনি মেয়ের বাড়ি যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন। বড় ছেলের স্ত্রী রিপা বেগম তাকে পরিবারের ছায়া হিসেবে বর্ণনা করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বজন জাকির হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুজ্জামান জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বাদ আসর পারিবারিক গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীকে প্রাথমিক সহায়তার পর বিকল্প বাহনে জয়পুরহাটে পাঠানো হয়। জয়পুরহাট ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর প্রতিমন্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সরদার রাশেদ মোবারক জানান, প্রতিমন্ত্রীর ডান পায়ে ‘সফ্ট টিস্যু ইনজুরি’ হয়েছে এবং হাত ও কাঁধে মৃদু আঘাত পেয়েছেন। তবে তার কোনো হাড় ভাঙেনি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণে প্রতিমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।

















