আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে প্রবল বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তালেবান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবারের এই ভয়াবহ বন্যায় দেশটির নুরিস্তান প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
তালেবান কর্তৃপক্ষের মতে, নুরিস্তান প্রদেশের রাজধানী পারুন শহরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় শহরের মেয়রও রয়েছেন। এছাড়া বন্যায় অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, পারুন শহরের অসংখ্য বাড়িঘর, দোকানপাট এবং সরকারি স্থাপনা বন্যার পানিতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা শপৌল-এর প্রধান আশিকুল্লাহ সাফি এএফপিকে জানিয়েছেন, আকস্মিক এই বন্যায় পারুন পৌরসভা ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে বিশাল পাথর ও ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। উদ্ধার সরঞ্জামের অপ্রতুলতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগেই ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আফগানিস্তান চরম আবহাওয়ার ঝুঁকির মুখে রয়েছে। কয়েক দশকের যুদ্ধ দেশটির অবকাঠামো ও দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে। এছাড়া নুরিস্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বন উজাড় ও অবৈধ গাছ কাটার ফলে মাটির পানি শোষণ ক্ষমতা কমে গেছে, যা ভারী বৃষ্টির সময় বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২০ সালে নুরিস্তানকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়েছিল।
এদিকে তালেবান সরকারের আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে যে, বুধবার পর্যন্ত আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ১০টিতে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। নদীর তীরবর্তী ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলেও উত্তর আফগানিস্তানে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত ১৫০ জন নিহত হয়েছিলেন, যদিও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সে সময় মৃতের সংখ্যা তিন শতাধিক বলে জানিয়েছিল।
ঘন ঘন বন্যা, ঝড় ও খরার পাশাপাশি কয়েক দশকের যুদ্ধ দেশটির অবকাঠামো ও দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে।২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগের পর তালেবান পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণ করে।
যদিও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সে সময় মৃতের সংখ্যা ৩০০-এর বেশি বলে জানিয়েছিল।

















