কানসাস স্টেডিয়ামে এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১১২ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখেছিল সুইজারল্যান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত সুইস দুর্গ ভেঙে জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ১০ মিনিটের মাথায় লিওনেল মেসির কর্নার থেকে আসা বলে মাথা ছুঁয়ে গোল করেন ম্যাক অ্যালিস্টার, যা খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর আর্জেন্টিনা আক্রমণের চাপ বাড়াতে থাকে। তবে ৬৭ মিনিটে রদ্রিগেজের পাস থেকে অসাধারণ গোল করে সুইজারল্যান্ডকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন ড্যান এনদোয়ে।
ম্যাচের মোড় পরিবর্তন হয় পাঁচ মিনিট পর। রেফারির সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং ডাইভ দেওয়ার দায়ে দুই হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ব্রিল এমবোলোকে। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী ডাইভের জন্য হলুদ কার্ড অনিবার্য। এই ঘটনার পর খেলার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আর্জেন্টিনার হাতে চলে যায়। সুইসরা রক্ষণাত্মক কৌশলে খেললেও শেষ রক্ষা হয়নি। ১১২ মিনিটের মাথায় ২৫ গজ দূর থেকে হুলিয়ান আলভারেজ গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন। এরপর ক্লান্ত সুইসদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আরেকটি গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।
সুইজারল্যান্ড দীর্ঘ ৭২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল এবং দশজন নিয়ে তাদের লড়াই বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এদিকে আর্জেন্টিনা এখন সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে, যাকে অনেকেই ফাইনালের আগের ফাইনাল হিসেবে দেখছেন। ৮৬ বিশ্বকাপের তিক্ত স্মৃতি এবং বদলার সুযোগ থাকায় ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২২ সালে মেসির হাতে ট্রফি উঠলেও এবার শিরোপা জয়ের দৌড়ে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেনকেই ফেভারিট হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে জানা যাবে এবারের চ্যাম্পিয়নের নাম।
















