ভারতের আসামে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজ্যের শিবসাগর, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও এবং চরাইদেও জেলায় বন্যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। বৃহস্পতিবারের তুলনায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বন্যায় শিবসাগর ও চরাইদেও জেলায় নতুন করে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে চরাইদেওতে সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যার সংখ্যা ৭৭ হাজার ৪৫৬ জন। এছাড়া শিবসাগরে ৬৩ হাজার ৪৯২ জন এবং জোরহাটে ৩৪ হাজার ৬৭ জন মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে রাজ্যে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৯৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বর্তমানে রাজ্যের প্রায় ১৩ হাজার মানুষ ৫৪টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি ২৬টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ৫ হাজার ৩৮৪ জনকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। গোলাঘাট, শিবসাগর ও নুমালিগড়ে দিখৌ ও ধানসিরি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জনসাধারণকে এসব এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় রাজ্য সরকার বিভিন্ন ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর আওতায় বীমা সংস্থাগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন, গবাদি পশু ও সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধে স্থগিতাদেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার বিষয়টি নিয়ে আগামী ৫ আগস্ট রাজ্য মন্ত্রিসভা সরকারি ও বেসরকারি বীমা সংস্থা এবং এনবিএফসিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে। সরকার দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে মেরামতের জন্য তহবিল বরাদ্দের কাজ শুরু করেছে।

















