ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটির বোরা সার্ভিস এলাকায় অবস্থিত বিলাস ইন হোটেলে ভয়াবহ গুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সোমবার ঘটা এই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলের মালিক ও ইজারাদারের মধ্যে সম্পত্তি ও ইজারা চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হোটেলের মালিক হেলেনা ভারালি, তার ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ, দেবর্ষির স্ত্রী রিনিকি কাশ্যপ, পরিবারের আত্মীয় নারায়ণ দাস এবং হেলেনার ভাই ভূদেব ভারালি। এছাড়া এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ সত্যেন্দ্র পাঠক নামে পরিবারের আরেক আত্মীয় বর্তমানে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থ সারথি মহন্ত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, ঘনকান্ত নিজেই হোটেলটি ইজারা নিয়েছিলেন এবং তিনিই এই হত্যাকাণ্ডে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি জব্দ করেছে এবং ঘটনার বিস্তারিত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে আসামের এই ঘটনায় গুয়াহাটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আসাম প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব গগৈ। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কাছে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্রমবর্ধমান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

















