যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার হুমকির মুখে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চলমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। সোমবারের এই বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন উপস্থিত ছিলেন। তারা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দেশটির নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হন।
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের এই যৌথ আলোচনাকে আঞ্চলিক কূটনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে আসিম মুনিরের তেহরান সফরের সময় এই বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এই প্রথম ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসলেন।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ। এই অবরোধের কারণে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেই সাথে হরমুজ প্রণালিতে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হলে তা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধের বিষয়েও সৌদি আরব চাপ প্রয়োগ করেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তুরস্ক ও পাকিস্তান ইয়েমেনে স্থলসেনা পাঠানোর পরিবর্তে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমেই ইরানকে সমঝোতায় রাজি করানোর চেষ্টা করছে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়েও ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্য আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সীমা আরোপ ও আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের দাবি জানালেও, ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে তারা সম্মত হবে না।
বৈঠক শেষে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি আলোচনাকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে এই আলোচনায় কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসেনি এবং পরবর্তী বৈঠকের বিষয়েও কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি। আঞ্চলিক এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও হুথিদের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে।

















