শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ, প্রতিভা বিকাশ এবং পড়াশোনায় উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে ভোলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬। শুক্রবার সকালে জেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৭টি হলে একযোগে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এবারের পরীক্ষায় ভোলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং ভোলা কালেক্টর স্কুল অ্যান্ড কলেজকে নির্ধারণ করা হয়েছিল। সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রগুলোতে এক উৎসবমুখর ও প্রাণচাঞ্চল্য পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মেধাবৃত্তি পরীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করা, তাদের যোগ্যতার স্বীকৃতি দেওয়া এবং বৃত্তির মাধ্যমে উৎসাহিত করা। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলা, মেধার বিকাশ ঘটানো এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আয়োজকদের মতে, মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে তাদের প্রতিভার যথাযথ বিকাশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, নৈতিকতা ও যোগ্যতায় সমৃদ্ধ প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিশেষ সহায়তা করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন চরফ্যাশন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ উল্লাহ স্বপন এবং নাজিউর রহমান কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাকসুদুর রহমান। তারা পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানায়, এই ধরনের বৃত্তি পরীক্ষা তাদের মেধা যাচাইয়ের পাশাপাশি নিজেদের যোগ্যতা ও সামর্থ্য সম্পর্কে ধারণা পেতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে তারা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে এবং ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রেরণা পাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানিয়ে কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। অভিভাবকদের মতে, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ ধরনের বৃত্তি পরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত এমন আয়োজন হলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পাশাপাশি বৃহত্তর পরিসরে প্রতিযোগিতার সুযোগ পাবে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কিশোরকণ্ঠের এই কার্যক্রম ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

















