বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি ব্রাজিল ও নরওয়ে। এই ম্যাচে কে পার্থক্য গড়ে দেবেন, নাকি কোচের ট্যাকটিক্যাল লড়াই ম্যাচের ভাগ্য লিখে দেবে—তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে পাঁচটি বিষয় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিল এখন পর্যন্ত ৮৮টি দেশের বিপক্ষে খেললেও নরওয়েকে কখনোই হারাতে পারেনি। দুই দলের চারবারের দেখায় দুবার জয়ী হয়েছে নরওয়ে এবং বাকি দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের একটি ম্যাচসহ এই পরিসংখ্যানের কারণে ব্রাজিলের ওপর একধরনের অদৃশ্য মনস্তাত্ত্বিক চাপ কাজ করছে, যা জয় করাই তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।
নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হলান্ডকে থামানো ব্রাজিলের রক্ষণভাগের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। শেষ ১৩ ম্যাচে ২৫ গোল করা হলান্ড চলতি বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচে ৫ গোল করেছেন এবং সর্বশেষ আইভরিকোস্টের বিপক্ষেও গোল পেয়েছেন। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও মার্কিনিওসরা তাকে কতটা সামলাতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের নিরাপত্তা।
অন্যদিকে, ব্রাজিলের আক্রমণের মূল ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দারুণ ফর্মে থাকা এই উইঙ্গারের ড্রিবলিং ও গতি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য দুঃস্বপ্ন। গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৪ গোল খাওয়া নরওয়ের রক্ষণভাগ ভিনিসিয়ুসের সৃজনশীলতা ও ফিনিশিংয়ের সামনে ৯০ মিনিট কতটা টিকে থাকতে পারে, তা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তাও একটি বড় ফ্যাক্টর। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের অধিকাংশ গোল এসেছে ৩০তম মিনিটের পর, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে তারা বেশি শক্তিশালী। বিপরীতে, নরওয়ের ম্যাচ মানেই ৮৫ মিনিটের পরের উত্তেজনা; সর্বশেষ ম্যাচেও তারা ৮৬ মিনিটে গোল করেছে। তাই শেষ বাঁশি বাজার আগপর্যন্ত স্নায়ুযুদ্ধে যারা স্থির থাকবে, তারাই সফল হবে।
সবশেষে, কোচ স্তালে সলবাকেনের ট্যাকটিক্যাল ব্যালেন্স ও ব্রাজিলের অল-আউট অ্যাটাক। আক্রমণাত্মক খেলার জন্য পরিচিত নরওয়ে কি ব্রাজিলের বিপক্ষেও একই কৌশল নেবে? নিজেদের রক্ষণ ঠিক রেখে আক্রমণে ধার বজায় রাখার এই ভারসাম্যই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ব্রাজিল তাদের এই ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষের বাধা টপকাতে পারে কি না।

















