ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে দত্তক নেওয়া বা পালিত সন্তান প্রকৃত সন্তান হিসেবে গণ্য হয় না। এ কারণে প্রকৃত সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শরিয়তের কোনো বিধান তাদের ওপর কার্যকর হয় না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট করেছেন যে, মুখে ডাকা পুত্রদের প্রকৃত পুত্র সাব্যস্ত করা যায় না, এটি কেবল মুখের কথা মাত্র (সুরা আহযাব: ৪)।
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা শাওকানি (রহ.) ফাতহুল কাদির (৪/৩০১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, পালক পুত্রকে পুত্র বলা কেবলই মুখের কথা, যার কোনো বাস্তবিক কার্যকারিতা নেই। অর্থাৎ, কোনো শিশুকে পালক হিসেবে গ্রহণ করলে ওই নারী বা পুরুষ তার প্রকৃত মা-বাবা হিসেবে গণ্য হন না এবং তাদের মধ্যে সন্তান-পিতামাতার শরিয়তি বিধানও প্রযোজ্য হয় না।
দত্তক নেওয়া সন্তানকে জাকাত দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে তার প্রকৃত বাবা-মায়ের আর্থিক অবস্থার ওপর। যদি দত্তক নেওয়া শিশুটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়, তবে দেখতে হবে তার প্রকৃত বাবা জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত কি না। যদি প্রকৃত বাবা দরিদ্র এবং জাকাত পাওয়ার যোগ্য হন, তবেই তাকে জাকাত দেওয়া জায়েজ এবং সেই টাকায় শিশুর ভরণপোষণ করা সম্ভব। কিন্তু প্রকৃত বাবা যদি সম্পদশালী হন, তবে সেই শিশুকে জাকাত দেওয়া যাবে না বা জাকাতের অর্থে তার লালন-পালন করা যাবে না।
ইসলামে এতিম, অসহায় বা দরিদ্র শিশুদের সাহায্য করা এবং তাদের দায়িত্ব নেওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। কোরআনে বার বার এতিমদের আশ্রয় ও স্নেহ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পালক হিসেবে গ্রহণ করলেও শিশুর প্রকৃত পরিচয় পরিবর্তন করা বা বাবা-মায়ের পরিচয় গোপন করা ইসলামে বৈধ নয়। তাকে নিজেদের সন্তান হিসেবে পরিচিত না করে পালিত সন্তান হিসেবেই পরিচয় দিতে হবে।
















