সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে তর্কের জেরে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগ এজলাস ত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর এই ঘটনা ঘটে। পরে এ বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে ব্রিফিং করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং বেলা সোয়া দুইটার দিকে নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিং করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, মামলার শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বিচারিক শৃঙ্খলা ও সততাকে প্রাধান্য দিয়ে কোনো ধরনের প্রতারণা দেখলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে শুরু হওয়া একটি মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে একই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে পাঁচটি রিট দায়ের করা হয়েছে, কিন্তু পূর্বের রিজেক্ট হওয়ার আদেশটি পরবর্তী রিটে উল্লেখ করা হয়নি। এই কারণে আপিল বিভাগ ওই নারী আইনজীবী ও রিট আবেদনকারীকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন, যা ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্যমতে, ওই মামলার আদেশ হয় সকাল সোয়া নয়টার দিকে। পরবর্তীতে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে অন্য একটি মামলার শুনানির সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন জরিমানা আরোপের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তখন প্রধান বিচারপতি জানান যে, আদালত সবকিছু দেখে-শুনে আদেশ দিয়েছে এবং এটি পরিবর্তন করা হবে না, কারণ আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
ঘটনার এক পর্যায়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন মন্তব্য করেন যে, প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনজীবীদের আয় কমে গেছে। অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, প্রধান বিচারপতি বিষয়টিকে শুরুতে হালকাভাবে নিলেও মাহবুব উদ্দিন খোকন একই কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি বলেন, এটি আদালত অবমাননার শামিল। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘যেহেতু আপনি এত বড় একটি কথা বলেছেন, আমি আজকে আর আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করব না’—এই কথা বলে তিনি এজলাস ত্যাগ করেন।
এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল আরও দাবি করেন, মাহবুব উদ্দিন খোকন আইনজীবীদের স্বার্থে কথা বলেছেন বলে দাবি করলেও মামলার কার্যধারায় এমন কোনো আলোচনার সুযোগ ছিল না।

















