নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মিসকান সরদার (৩৩) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত মিসকান ওই এলাকার লোকমান সরদারের ছেলে। এই সহিংসতায় এক নারীসহ উভয়পক্ষের মোট ৭ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের আজমল মুন্সি ও কামাল মেম্বার গ্রুপের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল মোল্যা ও হিরাঙ্গীর মোল্যা গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই মঙ্গলবার সকালে হামলার ঘটনা ঘটে। মুন্সি গ্রুপের কালাম মেম্বার জানান, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে তিনি বাড়িতে আসার সময় সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল মোল্যা ও হিরাঙ্গীর মোল্লার নেতৃত্বে মিল্লাত হোসেন, লিয়াকত সরদার, জসিম উদ্দিন ও রবিউল শেখসহ একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিসকান সরদারের ওপর হামলা চালায়।
হামলায় জাফর মুন্সির ছেলে সালাম মুন্সি গুরুতর জখম হন। তাকে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এছাড়াও খাঁজা সরদার, সিয়ামিন সরদার ও সারফিনা বেগমসহ আরও কয়েকজন লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর আহত মিসকান সরদারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন, কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
অভিযুক্তদের নেতা শহীদুল মেম্বারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

















