তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। মঙ্গলবার রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, দলের ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এবং অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ। বিমানবন্দরের এই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার কামরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের অংশ হিসেবে এই সফরটি পূর্বনির্ধারিত। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া ক্ষমতাসীন বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও রাজনৈতিক সংলাপে অংশ নেবেন তিনি। প্রতিনিধিদলে কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালকসহ একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন।
বুধবার সকালে শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তার দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। সকাল ১০টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন ও চীনা প্রতিনিধিদলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এরপর সকাল ১১টায় বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হিসেবে বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘হোয়্যার হিস্ট্রি ইলুমিনেটস দ্য ফিউচার: চায়না-বাংলাদেশ পলিটিক্যাল পার্টিজ প্লাস’ শীর্ষক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। একই অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ’-এর উদ্বোধন করা হবে, যার লক্ষ্য দুই দেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ গবেষণা। বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন ও চীনা দূতাবাসের চ্যান্সারি ভবন দেখার পর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেবেন চীনা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার সকালে একটি জীবিকাসহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন লিউ। পরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক শেষে দুপুরে তার ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, লিউ হাইশিংয়ের বাবা লিউ শুচিং ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যার ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে তার একটি পারিবারিক যোগসূত্র রয়েছে। এর আগে গত জুনে বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার বৈঠক হয় এবং দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের সফরটি দুই দলের সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

















