রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ডিএমপির মিরপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আবুল বাসার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, থানা–সংলগ্ন এলাকায় বাসে আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরই রামপুরায় বিটিভি ভবনের সামনে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকসহ রাজধানীর ছয়টি স্থানে এই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরও তিনটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে ইবাদুর রহমান নামের এক অটোরিকশাচালক আহত হন, যাঁকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশের ধারণা, উড়ালসড়ক থেকে এসব ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের উৎস সম্পর্কে তদন্ত চলছে।
রাজধানীর অন্যান্য স্থানেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি, সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় আগারগাঁওয়ে বেতার ভবনের সামনে, সাড়ে ছয়টায় মহাখালীতে, রাত আটটায় বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং নয়টার দিকে মগবাজার মোড়ে একটি করে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। আগারগাঁও ছাড়া বাকি স্থানগুলোতে উড়ালসড়কের ওপর থেকে ককটেল ছোড়া হয়েছে বলে পুলিশ মনে করছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানিয়েছেন, এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে এমন একটি মিছিলে সরকারবিরোধী স্লোগান ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান বিভাগের উপকমিশনার ও ওসির প্রত্যাহারের ঘটনার এক সপ্তাহ পর আবারও রাজধানীতে এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। এর আগে মঙ্গলবার জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।

















