সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের সাজার বিষয়টি আগে থেকে কেন জানানো হয়নি, তা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে এক বৈঠকে এই প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সৌদি কর্মকর্তা এই বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেটে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বন্দিদের একটি তালিকা পাঠায়। সেই তালিকায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম থাকলেও তাঁদের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি ঊহ্য রাখা হয়েছিল। অথচ এই তথ্য জানা থাকলে তাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো বলে মনে করছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে একই দিন সৌদি আরবকে আরেকটি কূটনৈতিক পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ। চিঠিতে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিবরণ এবং দণ্ডিতরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গত ১৪ অক্টোবর সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, এই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এরপর ১৫ অক্টোবর জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট বিস্তারিত তথ্য চেয়ে প্রথম কূটনৈতিক পত্র দেয়, যা পরে ১৮ অক্টোবর সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে পুনরায় হস্তান্তর করা হয়। সোমবারের বৈঠকে সৌদি পক্ষ দাবি করে, ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তারের পর যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নিম্ন আদালত ও পরে ১৩ সদস্যের আপিল প্যানেল তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা নজরুল ও সুইটি ২০২২ সালের শেষের দিকে সৌদি আরবে গিয়ে আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০২৩ সালের ১ ও ২ আগস্ট তাদের আটক করা হয়। তালিকায় নজরুলের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ এবং সুইটির বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ থাকলেও সাজার কোনো উল্লেখ ছিল না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ ঘটনায় তথ্য আদান-প্রদানে ঘাটতি বা ল্যাপস ছিল বলে মন্তব্য করেছেন এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন, যার মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষিত হয়েছে। তবে সাইবার বা ব্যভিচারের অপরাধে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা এটিই প্রথম বলে মিশনের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

















