অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি নিজের পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, যা সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন ইশরাক হোসেন তার নির্বাচনী এলাকা গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদকের আস্তানায় অস্ত্র হাতে অভিযান পরিচালনা করেন। এই অভিযানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি আমলে নিয়ে রোববার বিকালে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে ডেকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন জানান, তার কারণে যাতে সরকার বা বিএনপি কোনো ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে না পড়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইলেও মাদক নির্মূলে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছেন, যা প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন।
অভিযানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ইশরাক দাবি করেন, ঘুণ্টিঘর এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল। ইশরাকের দাবি, গত ১৮ই সেপ্টেম্বরের একটি বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এলাকাটিতে সামাজিক প্রতিরোধের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। অস্ত্র হাতে অভিযানের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ঘুণ্টিঘর এলাকায় প্রবেশের পর একদল লোককে ছোটাছুটি করতে দেখেন তারা। এ সময় নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেন। তার দাবি, পরে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে এলাকায় হেঁটে প্রায় ৩০০ মাদকসেবী ও বিক্রেতার চিত্র দেখতে পান। অভিযানে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই বিতর্কের জেরে বিএনপি সরকারের আট মাসে ইশরাক হোসেনসহ মোট তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য পদত্যাগ করলেন। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছিলেন।
ভবিষ্যতে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়ে ইশরাক বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার বিএনপি ও দলের প্রধান তারেক রহমানের। ২০২০ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন সমস্যা এবং সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি প্রস্তুত। পদ ছাড়লেও তিনি ঢাকা-৬ আসনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনের পর তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রেস ক্লাব এলাকা ত্যাগ করেন।

















