দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিনাজপুর। বুধবার রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার ৪ নম্বর শেখপুর ইউনিয়নের গাবুড়া বাজার থেকে তাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাত ১১টার দিক থেকেই শ্রমিকদের একটি অংশ কোতোয়ালি থানার সামনে, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও ট্রাক টার্মিনালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাস রেখে অবরোধ সৃষ্টি করে। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে থানার সামনে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়, যাতে ৭ থেকে ৮ জন শ্রমিক আহত হন। পরবর্তীতে বিকেল ৩টার দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি থানার সামনে অবস্থান নিলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আবারও সংঘর্ষে আরও ৬ থেকে ৭ জন আহত হন। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষ চলাকালে এস আর পরিবহনের একটি নৈশ কোচ ও এইচএ এন্টারপ্রাইজের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এছাড়া মাছরাঙা টেলিভিশনের এক ক্যামেরাপারসনের মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় অন্তত ১০টি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরো এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শহরের বিভিন্ন সড়ক কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এছাড়া যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এদিকে, কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শেখ বাদশাকে কোতোয়ালি থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, আসন্ন জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ায় তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই পুলিশ আটক করেছে। তবে পুলিশের দাবি, শেখ বাদশার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, শ্রমিক নেতা শেখ বাদশার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

















