ডালাস এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে এক স্মরণীয় ফুটবল যুদ্ধের সাক্ষী হলেন ৭০ হাজার দর্শক। কোটি কোটি দর্শক টিভির পর্দায় চোখ রাখা এই নাটকীয় ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে মিশর। প্রায় এক শতক পর নকআউটে ফেরা মিশরের জন্য এই জয়টি ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। ম্যাচের ১৩ মিনিটেই গোল করে মিশরকে এগিয়ে দেন ইমাম আশুর, যা শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দেয়। তবে ৫৫ মিনিটে মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে ১-১ সমতায় ফিরে ম্যাচটি নাটকীয় মোড় নেয়।
নির্ধারিত সময়ের পর খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ালেও কোনো দলই আর গোল করতে পারেনি। বলের নিয়ন্ত্রণ মিশরের কাছে থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগ ভাঙা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অস্ট্রেলিয়া লম্বা পাসের মাধ্যমে খেলার গতি পরিবর্তনের চেষ্টা করে, কিন্তু গোলরক্ষক পরিবর্তনের পরও তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় পেনাল্টি শুটআউটে, যেখানে মিশর ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। সুপারস্টার মোহাম্মদ সালাহর পেনাল্টি গোলটি ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া।
বিজয়ের পর মাঠে মিশরের খেলোয়াড়দের আনন্দ-উল্লাসের দৃশ্য ছিল দেখার মতো। কেউ কেউ আনন্দে গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন, আবার কেউ মাঠেই সেজদায় লুটিয়ে পড়েন। হাতে পতাকা নিয়ে খেলোয়াড়রা উল্লাসে মেতে ওঠেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ এই অসাধারণ জয়ের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। অন্যদিকে, হারের বেদনায় অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়। ফুটবল যে কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, তা এই ম্যাচের ফলাফলেই আবারও প্রমাণিত হলো।

















