বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৪-৬ গোলে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দিদিয়ের দেশমের দীর্ঘ ১৪ বছরের সফল অধ্যায়ের ইতি ঘটল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে বিশ্বকাপ শেষেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন, যা এখন বাস্তবে রূপ নিল। ফরাসি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, দেশমের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ফ্রান্সের দায়িত্ব নিচ্ছেন দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। শনিবার রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল ডাগআউটে দেশমের শেষ ম্যাচ।
২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশম ফ্রান্সকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী ও ধারাবাহিক দলে পরিণত করেছিলেন। তার অধীনে গত ১৪ বছরে ফ্রান্স ১৮৬টি ম্যাচ খেলে ১২০টিতে জয়ী হয়, ড্র করে ৩৫টিতে এবং হারে মাত্র ৩১টিতে। দেশমের অধীনে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স ছিল ঈর্ষণীয়। বিশেষ করে ২০১৮ বিশ্বকাপে শিরোপা জয় তার কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাফল্য।
এবারের বিশ্বকাপে দেশমের সামনে সুযোগ ছিল টানা তৃতীয়বার ফ্রান্সকে ফাইনালে তোলার, যা বিশ্ব ফুটবলে বিরল এক কীর্তি হতে পারত। এছাড়া শিরোপা জিতলে খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য রেকর্ডে ব্রাজিলের কিংবদন্তি মারিও জাগালোর পাশে বসার সুযোগ ছিল তার। ১৯৯৮ সালে অধিনায়ক হিসেবে এবং ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা দেশম ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাছে ফাইনালে হারের পর এবার সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি।
দেশমের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ফরাসি ফুটবলে নতুন এক যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানো জিনেদিন জিদানের কাঁধে এখন ফ্রান্সকে আবারও বিশ্বসেরার আসনে ফিরিয়ে আনার গুরুদায়িত্ব। ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, দেশমের রেখে যাওয়া সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জিদান ফরাসি ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।
এবারের বিশ্বকাপে বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশমের সামনে থাকা এক অনন্য ইতিহাস গড়ার সুযোগও হাতছাড়া হয়ে গেল। ফ্রান্সকে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে পারলে সেটি হতো বিশ্ব ফুটবলের এক বিরল কীর্তি। তাছাড়া, এবার শিরোপা জিততে পারলে খেলোয়াড় ও কোচ মিলিয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়তেন তিনি। এর মাধ্যমে ব্রাজিলের কিংবদন্তি মারিও জাগালোর পাশে বসার গৌরব অর্জন করতেন, যিনি ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে খেলোয়াড় হিসেবে এবং ১৯৭০ সালে কোচ হিসেবে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। পাশাপাশি ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলেও সহকারী কোচ ছিলেন জাগালো।

















