দেশের মহাসড়কগুলোর পাশে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। এই কেন্দ্রগুলোকে আধুনিকায়ন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ হিসেবে নতুনভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার একটি অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালুরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বিদ্যমান ট্রমা সেন্টারগুলোর নাম পরিবর্তন করে অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার রাখা হবে এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সাথে সমন্বয় করে মহাসড়কের পাশের খালি জায়গায় নতুন করে এই কেন্দ্রগুলো প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি এক্স-রে মেশিন ও অ্যাম্বুলেন্সের খরচ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে নির্বাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি এবং ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মূলত মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ের গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়াই ছিল এর লক্ষ্য। তবে জনবল, সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে এগুলো বছরের পর বছর অকেজো পড়ে আছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি কেন্দ্রে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে এবং একটি জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টারটি প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালে নির্মিত হলেও দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত ছিল। কেবল গত কোরবানির ঈদের সময় ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য এটি অস্থায়ীভাবে চালু করা হয়েছিল। পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী, রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবলসহ বিভিন্ন স্থানে এই কেন্দ্রগুলো অবস্থিত।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি কেন্দ্রে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্ট ও দুজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জন চিকিৎসক এবং ১০ জন নার্স, ফার্মাসিস্ট ও টেকনিশিয়ান থাকার কথা ছিল, যা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন যে, খুব দ্রুতই এগুলোকে জরুরি সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নিয়মিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি টেকসই অংশ হিসেবে পরিচালিত হবে।

















