শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার পরিবেশবান্ধব ও স্বল্প ব্যয়ের প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বুধবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বৃত্তাকার নৌপথের পুনরুজ্জীবন এবং অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) না থাকায় রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি খাল-নদীতে মিশে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। তবে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য বিদ্যমান ইটিপি প্রযুক্তি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০ কোটি টাকার একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপনেই যদি ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়, তবে সেই শিল্পের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই এই সমস্যা সমাধানে সরকার কম খরচে কার্যকর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।
চীন সফরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সেখানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে স্বল্প ব্যয়ে বর্জ্য শোধনের প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চীন এমন কিছু প্রযুক্তিগত ধারণা দিয়েছে যা বেসরকারি পর্যায়ে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে। তবে এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, কেবল খাল খনন বা সংস্কার করলেই পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়, শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন জেলায় খাল পুনরুদ্ধার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব উদ্যোক্তাদের হলেও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা সরকারের কাজ। এজন্য ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আগামী সপ্তাহে পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান। মন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্পের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে নেদারল্যান্ডস সরকারের কাছে কারিগরি সহায়তা চাওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকেও প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪: ৪২আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৫: ০৭

















