মায়ামি স্টেডিয়ামে ৬৫ হাজার দর্শকের সামনে হ্যারি কেইন ও আর্লিং হালান্দের দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবার নজর কেড়ে হিরো হয়ে গেলেন জুড বেলিংহাম। তার জোড়া গোলে ইংল্যান্ড চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। অথচ এই ম্যাচের অন্যতম বড় তারকা আর্লিং হালান্দ ছিলেন পুরো সময় নিষ্প্রভ। তাকে কড়া মার্কিংয়ে রাখা হলেও, তার এমন পারফরম্যান্স নিয়ে এখন নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, ইংল্যান্ডে জন্ম ও ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলার সুবাদে হালান্দ হয়তো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে চাননি। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, নরওয়ের সতীর্থদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত বল না পাওয়া এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি ফাউলের দায়ে বাতিল হওয়ার হতাশা তার খেলায় প্রভাব ফেলেছিল। বিশেষ করে, খেলার এক পর্যায়ে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার সরলথ বল পাস না দিয়ে নিজে গোল করার চেষ্টা করলে হালান্দকে মাঠেই বেশ বিরক্ত হতে দেখা যায়।
ফুটবল ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা নতুন নয়। ১৯৯০ সালের ৩রা জুলাই ইতালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ন্যাপোলির মাঠে ইতালি ও আর্জেন্টিনার লড়াইয়ের কথা অনেকেরই মনে আছে। সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার পারফরম্যান্সের পর তাকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা হয়েছিল। স্থানীয় ভক্তরা তাকে বিশ্বাসঘাতক ও নিমকহারাম বলে অভিযুক্ত করেছিলেন। হালান্দ কি সেই বদনাম এড়াতেই সরে দাঁড়িয়েছিলেন, নাকি তিনি আর পেরে উঠছিলেন না—তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। নরওয়ের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক আফটেনপোস্টেন এই ম্যাচ সম্পর্কে বলেছে, ৬০ বছর ধরে ইংল্যান্ড কাপের অপেক্ষায় থাকা দেশটির জন্য এই জয় ছিল অসীম কষ্টের হলেও পুরো বিশ্বকাপ যাত্রা ছিল একটি আনন্দময় উৎসব। যদিও নরওয়ে প্রথমে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই জুড বেলিংহাম গোল শোধ করে দেন। এরপর গোলরক্ষকের হাত ফসকে আসা বল জালে জড়িয়ে বেলিংহাম ইংল্যান্ডকে জয় এনে দেন। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল নিজের দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারেননি, বরং তিনি হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এর আগে স্পেন ও বেলজিয়ামের ম্যাচেও একই ধরনের নাটকীয়তা দেখা গিয়েছিল, যেখানে মিকেল মেরিনোর গোল নির্ধারণ করে দিয়েছিল সেমিফাইনালের ভাগ্য।
৮৬’র মেক্সিকো বিশ্বকাপে তাদের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা।

















