বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য বুধবারের সব এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক জরুরি আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির কারণে শেষ পর্যন্ত পুরো বোর্ডের পরীক্ষাই স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরবর্তী তারিখ ও সময়সূচি পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।
গত দুই দিনের একটানা অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তৃত এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রেকর্ড অনুযায়ী, ৬ জুলাই বিকেল ৩টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বন্দরনগরীতে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। এই দুর্যোগে চট্টগ্রাম নগর, রাঙ্গুনিয়া, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এবং কক্সবাজারে দেয়াল ও পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মাইসছড়ি এলাকা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাওয়ায় দুই জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট অবতরণে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া রেললাইনের ওপর পানি জমে যাওয়ায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর স্টেশনে আটকা পড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজার জেলার উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে গত দুই দিনে ছোট-বড় ১৯৩টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সদর উপজেলা, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়াসহ জেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

















