বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইকে অনেকে ‘সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয়’ ম্যাচ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়া খেলোয়াড়দের নিয়ে আরও একটি ম্যাচ খেলা বেশ কঠিন। তবে এই ম্যাচকে পুরোপুরি গুরুত্বহীন বলা যাবে না। ফুটবলের বাণিজ্যিক দিক এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত মাইলফলক অর্জনের জন্য এই ম্যাচটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ ১৯৫৮ সালের কথা বলা যায়, সেবার জ্যঁ ফন্তেইনের ১৩ গোল করার রেকর্ড গড়া সম্ভব হয়েছিল এই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটির কারণেই। এবার কিলিয়ান এমবাপ্পে লিওনেল মেসির সমান ৮ গোল নিয়ে গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আছেন, যা তাকে পরিসংখ্যানে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় মিয়ামি স্টেডিয়ামে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড এই ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে।
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম তার ১৪ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন এই আসর দিয়ে। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অধীনে ১৮৪ ম্যাচে ১২০টি জয় পেয়েছে ফ্রান্স। তিনি এই ম্যাচটিকে প্রীতি ম্যাচ হিসেবে দেখছেন না এবং মাথা উঁচু করেই বিদায় নিতে চান। দেশম জানিয়েছেন, তিনি রিজার্ভ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেবেন, তবে ব্যক্তিগত মাইলফলকের কথা মাথায় রেখে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে শুরু থেকেই খেলানো হবে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল সরাসরি বলেছেন যে কোনো দলের খেলোয়াড়ই সেমিফাইনালে হারার পর এই ম্যাচটি খেলতে আগ্রহী নয়। তবুও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে তারা মাঠে নামবেন এবং নিয়মিত অনেক তারকাকে বিশ্রামে রেখে বেঞ্চের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ম্যাচটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, কারণ জিততে পারলে ১৯৬৬ সালের পর এটিই হবে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের প্রচলন শুরু হয় ১৯৩৪ সাল থেকে। তবে ১৯৫০ সালে কোনো তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ছিল না, কারণ সেবার চার দলের ফাইনাল গ্রুপ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল। ১৯৫৪ সাল থেকে প্রতিটি আসরেই এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জার্মানি সর্বোচ্চ ৬ বার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে চারবার জয়ী হয়েছে। এরপরের অবস্থানে আছে ফ্রান্স (৪), উরুগুয়ে (৩), পোল্যান্ড (৩) ও সুইডেন (৩)। ফ্রান্স এর আগে ১৯৫৮, ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালে এই পর্যায়ে খেলেছে। এর মধ্যে ১৯৫৮ সালের ম্যাচটি ছিল স্মরণীয়, যেখানে ফন্তেইন একাই ৪ গোল করেছিলেন।
বর্তমান সময়ে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেরই প্রচুর বিজ্ঞাপন ভ্যালু রয়েছে, যা ফিফা ও আয়োজক দেশের জন্য আর্থিকভাবে লাভজনক। এছাড়া অংশগ্রহণকারী ফুটবল ফেডারেশনগুলোও এর মাধ্যমে পুরস্কৃত হয়। ২০২২ বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার, রানার্সআপ দল ৩৩ মিলিয়ন, তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল ২৯ মিলিয়ন এবং চতুর্থ হওয়া দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার।
ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে ১৪ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন দিদিয়ের দেশম। ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ শেষটায় মাথা উঁচু করেই বাড়ি ফিরতে চান। বলেছেন, এটা কোনো প্রীতি ম্যাচ নয়। নিজেদের জন্য, ফ্রান্সের জার্সির মর্যাদার জন্য এবং সমর্থকদের জন্যও ম্যাচটি জিততে চান দেশম। এই ম্যাচে রিজার্ভ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেবেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত মাইলফলকের কথা ভেবে শুরুতেই রাখা হবে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। ২০১২ সালে ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হন দেশম। তার অধীনে ১৮৪ ম্যাচে ১২০ জয় কুড়ায় ফ্রান্স। বিশ্বকাপ ছাড়াও জিতেছেন উয়েফা নেশন্স লীগ। তাছাড়া দেশমের অধীনে ২০১৬ ইউরো ও ২০২৫ নেশন্স লীগে রানার্সআপ হয় ফ্রান্স।
১৯৩০ সালে আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপ আসরে কোনো তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ছিল না। পরের আসর থেকে চালু হয় এটি। সেবার অস্ট্রিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে জার্মানি। তবে ১৯৫০ বিশ্বকাপেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হয়নি। কারণ, সে আসরে নকআউটের বদলে চার দলের ফাইনাল গ্রুপ পদ্ধতিতে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করা হয়েছিল। ১৯৫৪ থেকে প্রতিটি আসরেই এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

















