প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ৩৮
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হোসেইন রয়ভারানের মতে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়ে ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা মূলত একটি দীর্ঘদিনের অজুহাত। তার দাবি, ইরান কখনোই এমন কোনো অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন নিষিদ্ধ করে একটি ধর্মীয় ফতোয়া রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরান চাইলে দ্রুতই এমন অস্ত্র অর্জন করতে পারত, কিন্তু এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
অধ্যাপক রয়ভারান মনে করেন, গত দুই দশক ধরে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধ এবং স্কুল, ক্রীড়াকেন্দ্র ও বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনার যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য পারমাণবিক ইস্যুটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তার মতে, এটি কোনো নতুন বিষয় নয়, বরং এটি সেই পুরনো বয়ান যার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সব ধরনের অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে।
ভেস্তে যাওয়া পারমাণবিক আলোচনার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, জেনেভায় ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছিল। ওমানের মধ্যস্থতায় কয়েক দিনের মধ্যেই একটি খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে সামরিকীকরণের পথে না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইসরাইলের চাপের কারণেই ওই সমঝোতা স্মারকটি ভেস্তে যায়। রয়ভারানের দাবি, হোয়াইট হাউস এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসলে আইপ্যাকের নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হয়।
তিনি আরও বলেন, চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার পেছনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা ছিল প্রধান। রয়ভারান সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের পর আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প যদি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন, তবে ইরানের হাতেও সব ধরনের সক্ষমতা রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, ইরান চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের সব নৌ-জাহাজ ডুবিয়ে দিতে পারে, তবে এর ভয়াবহ পরিণাম ভোগ করতে হবে বলেই তারা এখন পর্যন্ত তা করছে না।

















