ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষের পর সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সামনের এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা। এ সময় আশপাশের এলাকায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো নেতা–কর্মীকে দেখা যায়নি। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে লাঠি, হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট হাতে মিছিল নিয়ে তাঁরা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের দিকে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মিছিল থেকে কিছু ব্যক্তি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে পড়েন এবং সেখানে অবস্থান করা ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীদের ধাওয়া দেন। দুই পক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ির পর হামলাকারীরা জরুরি বিভাগের ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন দুজনকে মারধর করা হয় এবং একজনকে বাইরে এনেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে চিকিৎসাধীন ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীদের পুলিশের পাহারায় অ্যাম্বুলেন্সে করে অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে এবং চিকিৎসাধীনরা অন্য হাসপাতালে চলে গেছেন। তবে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে আছেন। পুলিশও সেখানে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় দুপুর ১২টার দিকে, যখন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত একটি সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সঙ্গে জকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি শুরু হয়। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তন, শহীদ মিনার ও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় দুই দফায় এই সংঘর্ষ চলে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে জকসু ও ছাত্রশক্তির অন্তত ৫০ জন আহত হয়ে ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ছাত্রদলও তাদের বেশ কয়েকজন নেতা–কর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছে।

















