পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) হাসান মাহমুদের নিয়োগ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে পদোন্নতি পুনর্বিবেচনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বরাবর ১৫ দিনের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আরিফুল ইসলাম।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, ২০১২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) হিসেবে যোগ দেন হাসান মাহমুদ এবং ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি এএমআইই কোর্স করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত লঙ্ঘন করেই তিনি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি)-এর এই কোর্স সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নথিপত্রেও এই অনিয়মের তথ্য থাকার কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসান মাহমুদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ২০২৩ সালের ২২ মার্চ জারিকৃত অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়, অথচ এই পদোন্নতি কার্যকর দেখানো হয় ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে। যেখানে পদোন্নতির সুপারিশকারী সিলেকশন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালের ১২ মার্চ এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রিজেন্ট বোর্ডের ৫১তম সভায়। আইনজীবীর দাবি, চাকরিবিধি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও পূর্ববর্তী তারিখ থেকে পদোন্নতি কার্যকর করায় নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধিবিধান যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া, নোটিশে হাসান মাহমুদের বাবা ও দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই অনিয়মগুলো আড়াল করে পদোন্নতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার খানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও, সেই কমিটির প্রতিবেদন বা সুপারিশ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান জানান, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

















