এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল এখন গ্যাস সরবরাহের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলেও ২৩ আগস্ট পর্যন্ত কোনো এলএনজিবাহী কার্গো না আসায় সারা দেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক তদবিরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ৬টি কার্গো আমদানির ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই মূলত এই সংকট তৈরি হয়েছে। আজ একটি কার্গো আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আসছে না। এই সংকট নিরসনে সরকার তড়িঘড়ি করে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে ৫টি এলএনজি কার্গো কেনার জন্য জরুরি দরপত্র আহ্বান করেছে। এ বিষয়ে আজ সন্ধ্যায় ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির একটি জরুরি জুম মিটিং ডাকা হয়েছে।
পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, সামনে সংকট থাকলেও তা মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২১ জুলাই থেকে টানা ২৬ দিন ধরে দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, মহল বিশেষের তদবিরের কারণেই বর্তমানে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে এলএনজি খালাস করার মতো কোনো কার্গোর ব্যবস্থা গত কয়েক দিনে করতে পারেনি সরকার। জিংহু শিপিং নামের একটি কোম্পানির আজ কার্গো সরবরাহ দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটিও আসেনি। এছাড়া ২৩ আগস্টের নির্ধারিত কার্গোটিও আসবে না বলে জানা গেছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারা দেশে ২২৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়েছে, যেখানে শনিবার এই পরিমাণ ছিল ২৪০ কোটি ঘনফুটের বেশি। এক্সিলারেটের টার্মিনালে গ্যাসের মজুত ফুরিয়ে আসায় সরবরাহ ক্রমাগত কমছে।
চলতি মাসের শুরুতে ব্লেক কিউব, মেক্স অয়েল ও জিং হু শিপিং নামের তিনটি কোম্পানির কাছ থেকে মোট ৬টি কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব জ্বালানি বিভাগ মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে পাঠিয়েছিল। এর মধ্যে ব্লেক কিউব প্রতি ইউনিট ১৩ ডলার, মেক্স অয়েল ২১ ডলারের বেশি এবং জিং হু শিপিং ১৬ ডলারের দর দিয়েছিল, যেখানে স্পট মার্কেটে বর্তমান দাম ২২ ডলারের বেশি। পিপিএ-২০০৬ ও পিপিপি বিধিমালা অনুসরণ করে ৬ আগস্ট এই কার্গোগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এসব কার্গো ক্রয়ে সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সুপারিশ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আরপিজিসিএল রোববার বিকেলে স্পট মার্কেট থেকে ৫টি কার্গো কেনার দরপত্র আহ্বান করেছে। এসব কার্গো ২৩, ২৬, ২৯ আগস্ট এবং ১ ও ৪ সেপ্টেম্বর সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। এদিকে, সার্বিক গ্যাস সংকটের মধ্যেও বিদ্যুৎ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ বজায় রাখা হয়েছে। ২২৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট গ্যাসের মধ্যে প্রায় ৯৬ কোটি ঘনফুট বিদ্যুৎ খাতে, ৯০১ কোটি শিল্প খাতে এবং ২০ কোটি সার খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় রোববার বিকাল ৫টা পর্যন্ত লোডশেডিং ছিল মাত্র ৩৬৫ মেগাওয়াট। ওই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৩১৫ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৯৫০ মেগাওয়াট।

















