ইতালির মেস্ত্রে শহরের একটি পার্কে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। গত সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পর এই ঘটনা ঘটে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক ভিডিও বার্তায় বাঁধন জানান, ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে ঘুরতে গেলে একদল ব্যক্তি তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন, কোক ও ডিম ছুড়ে মারেন এবং তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা নিজেদের ইতালি শাখা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে দাবি করে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মনিরুল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে এই ঘটনার লাইভ প্রচার করা হয়। মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা মনিরুল আগে ছাত্রলীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে। ৫ আগস্টের পর তিনি প্রথমে লিবিয়া ও পরে ইতালিতে পাড়ি জমান।
ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলায় সরাসরি জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে শরীয়তপুরের বাসিন্দা শিপল মাহমুদ বিপ্লবকে বারবার বাঁধনের দিকে পানি ছুড়ে দিতে দেখা গেছে। তিনি বর্তমানে ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা ইলিয়াস মিয়াকে বাঁধনকে থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়, যার আঘাতে অভিনেত্রীর মুঠোফোন মাটিতে পড়ে যায়। ইলিয়াসকেও ভেনিস আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা গেছে।
ঘটনার সময় বাঁধনকে শাসাতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম আলতাফ পাহাড়। শরীয়তপুরের বাসিন্দা আলতাফ অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে ইতালির ভেনিসে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ভিডিওতে তাঁকে বাঁধনের কাছাকাছি থেকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা যায়। এদিকে, এই ঘটনার পর হামলাকারী মনিরুলের পরিবার বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে প্রথমে লিবিয়া এবং পরে ইতালিতে যান।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণ করে এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে।

















