বাঘ পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী এবং জীববৈচিত্র্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বুধবার বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় আয়োজিত এক র্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রায় একশ বছর আগে বিশ্বজুড়ে বাঘের সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ, যা বর্তমানে কমে পাঁচ হাজারের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে। বাঘের অস্তিত্ব যে চরম হুমকির মুখে, এই পরিসংখ্যানই তার স্পষ্ট প্রমাণ। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সতর্ক করে বলেন, এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং মানুষকে সচেতন করতে না পারলে ভবিষ্যতে এ প্রজাতি আরও বড় সংকটের সম্মুখীন হবে।
বাংলাদেশে বাঘের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সুন্দরবনে বর্তমানে ১২৪টি বাঘ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রায় ১৫টি এবং দেশের অন্যান্য চিড়িয়াখানায় প্রায় ৫০টি বাঘ সংরক্ষিত আছে। বাঘকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বাঘ সম্পর্কে জানতে পারে এবং এর সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে, সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।
বাঘ গণনায় বরাদ্দকৃত বাজেট ও স্বচ্ছতা বিষয়ক সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বাঘ গণনার বিষয়টি বন বিভাগের আওতাধীন এবং এটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। তবে বন বিভাগ তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার সঙ্গেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার স্যুভেনির শপ উদ্বোধন করেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহীনুর আলম, চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. হাবিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

















