ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে স্থাপিত ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানিয়েছেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগেই অসম্পূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভাস্কর্যটি অপসারণ করে নতুন ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে। এই কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক নেতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
গঠিত এই কমিটিতে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা মো. হাফিজুর রহমান এবং ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
সভার শুরুতে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা মো. হাফিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর গত ১৪ জুলাই ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলার বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। তিনি দাবি করেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান বাংলাদেশের গর্ব, তাই একই স্থানে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণ করা জরুরি। জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ এই দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, ভাস্কর্যের অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থাপনাটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল, যা স্থানীয়দের কাছে অবহেলিত ছিল।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামালউদ্দিন জানান, ভাস্কর্যটি নির্মাণের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় অনেকেই এর গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বর্তমানে ভাঙার কাজ স্থগিত রয়েছে এবং তারা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, ২০১৯ সাল থেকেই স্থাপনাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল এবং এখন শহরের প্রাণকেন্দ্রে উপযুক্ত স্থানে নতুন ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনে কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে জায়গা নির্বাচন ও নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য যে, ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্যটি দীর্ঘ সময় ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। ২০২৪ সালের সরকার পতনের পর বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের এ ভাস্কর্যটি হামলার শিকার হয়। স্থানীয়দের দাবি, চত্বরটির উচ্চতার কারণে চারমুখী মোড়ে যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। গত ১৩ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত এটি ভাঙার কাজ চললে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ভাঙার কাজ স্থগিত করে।

















