যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের অবসান এবং আঞ্চলিক শান্তির পথ খুঁজতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার ইরান সফর শেষে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করে ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই দেশের আলোচনায় সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ করার উপায়গুলো নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আলোচনার মাধ্যমে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তির পথ খোঁজার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোহসিন নাকভি জানান, ইরানের প্রেসিডেন্ট তার সরকারের অবস্থান অত্যন্ত খোলাখুলিভাবে তুলে ধরেছেন এবং বৈঠকটি অত্যন্ত গঠনমূলক হয়েছে। তবে পাকিস্তান বা ইরান সুনির্দিষ্টভাবে কী ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই বিস্তারিত জানানো হয়নি।
তেহরান সফরের আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। ফলে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির যোগাযোগকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করেছেন যে, ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পাকিস্তানের এই উদ্যোগকে সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

















