মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (এমজেডিএ) নতুন দেশ যুক্ত হওয়ার পথ খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তান স্পষ্ট করেছে যে, কোনো দেশ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটে যোগ দেওয়ার আবেদন জানায়, তবে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এ তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের এই জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মুখপাত্র বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি শান্তি রক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো। এটি একটি উদীয়মান নিরাপত্তাবলয়, যার দরজা সেই সব দেশের জন্য খোলা রয়েছে যারা অভিন্ন নিরাপত্তাস্বার্থ ও যৌথ বাধ্যবাধকতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে নতুন সদস্য নেওয়ার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম তিনি উল্লেখ করেননি। এমনকি ইরান ও সিরিয়ার আগ্রহের বিষয়েও তিনি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। তিনি আরও জানান, চুক্তিটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
বাংলাদেশেও এই চুক্তিতে যোগ দেওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে এখনো নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও আলোচনা চলছে। আরেক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় ইসলামিক দেশগুলোর নিরাপত্তা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। এছাড়া জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, মক্কা জোটের সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাব এলে সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব পায়নি।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা শক্তিশালী করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এছাড়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় বাড়ানো, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে এই চুক্তির আওতায়।

















