নাটোরের গুরুদাসপুরে নন্দকুজা নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর ওয়াবদা বাজার এলাকায় এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। হামলায় গুরুদাসপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার ও কনস্টেবল রাকিবুল ইসলাম আহত হন। ঘটনার পরপরই তাদের উদ্ধার করে গুরুদাসপুর সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসা শেষে তারা থানায় ফিরে যান।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে নন্দকুজা নদীতে গোসল করতে গিয়ে চন্দ্রপুর এলাকার দুই শিশু প্রাণ হারায়। সেই ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সদস্যরা। এ সময় নিহত শিশুদের মরদেহ দেখানোর বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি হয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতির এক পর্যায়ে স্থানীয়দের একটি অংশ পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া করে একটি টিনশেডের দোকানঘরে অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে বের হয়ে মাদ্রাসার দিকে যাওয়ার চেষ্টার সময় পুলিশ সদস্যদের ওপর আবারও হামলা চালানো হয় এবং মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে রাখা হয়।
গুরুদাসপুর থানা থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) এস এম রিয়াজুল হাসানসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা সরে পড়ে। এরপর পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার পান। ওসি তদন্ত এস এম রিয়াজুল হাসান জানান, স্থানীয়রা আইনি প্রক্রিয়া বুঝতে না পেরে মরদেহ ময়নাতদন্তের আশঙ্কায় এমন আচরণ করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এদিকে, এই ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক ক্লোজ করে জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ত্রুটি পরিলক্ষিত হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সার্বিক বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সার্কেল অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তদন্ত কাজে বাধা ও পুলিশ হেনস্তার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর ওয়াবদা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

















