সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালত তাঁকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এই ঘটনায় গাজী নজরুল, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।
গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী দলের ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ার কারণ দেখিয়ে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। ২২ জুলাই দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে গাজী নজরুলকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে গাজী নজরুল নিজেই স্বীকার করেন যে, ভিডিওর তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে ও প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তিনি মরিয়মকে বিয়ে করেছিলেন।
গত রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এজাহারে গাজী নজরুল, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। এজাহারে মরিয়মকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা এখনো তদন্তাধীন।
পুলিশ প্রথমে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় এবং পরে রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখায়। এজাহারে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মরিয়মকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো এবং তিনি বিভিন্ন সময়ে মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছে এসব অভিযোগ করেছিলেন। মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ, গাজী নজরুল, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা এবং ওবায়দুরের আচরণ ও বিভিন্ন ঘটনার কারণে মরিয়ম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
ঘটনার দিন, ২০ সেপ্টেম্বর, বিকেল আনুমানিক ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো এক সময় মরিয়মের মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। ঘরের ভেতর একটি আত্মহত্যার নোটও পাওয়া গেছে, যেখানে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং কাছের মানুষের কারণে বিপর্যস্ত হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে লেখাটি মরিয়মের কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
দল থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। সংবিধান অনুযায়ী, দল কর্তৃক বহিষ্কৃত হলেই সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না; এ বিষয়ে স্পিকার সিদ্ধান্ত দেন। তবে এই বিষয়ে স্পিকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। এই পরিস্থিতিতে দলীয় রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান সংকুচিত হতে থাকে এবং তাঁকে পদত্যাগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পরে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনকেও চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানায় জামায়াত। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নির্যাতন–আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ, এমপি গাজী নজরুলসহ গ্রেপ্তার ২, আলোচনায় ‘সুইসাইড নোট’।

















