রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শিগগির তার পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ওই সূত্রটি জানিয়েছে যে, বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সংশয় নেই। সরকার ও সরকারি দল বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা এখন নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। যদি নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নে কোনো বিলম্ব হয়, তবে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এই রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমূল বদলে যায়। শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ত্যাগের পর সংসদ বিলুপ্ত এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই আন্দোলনকারী ছাত্রনেতারা রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তার পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর সাহাবুদ্দিন জানিয়েছিলেন যে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে ইচ্ছুক। সে সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে অপমানিত বোধ করার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। যদিও সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ছিল, তবে সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তার পদত্যাগ দাবি করেনি। শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করলে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হবে। একই সঙ্গে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো নিজেদের মনোনীত কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

















