লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরশহরের প্রধান বাণিজ্যিক সড়ক হিসেবে পরিচিত সোনাপুর ফায়ার সার্ভিস থেকে রামগঞ্জ শিশু পার্ক পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে সংস্কারকাজ শুরু হলেও কাজের ধীরগতির কারণে স্থানীয়দের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো কাজ শুরু না হওয়া এবং বৃষ্টির মধ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই বর্তমানে সড়কটির অবস্থা লেজেগোবরে হয়ে পড়েছে বলে তারা মনে করেন।
রামগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ এটি। হাসপাতাল, ব্যাংক, স্কুল ও কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেতে এই সড়কটিই ভরসা। বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভারী যানবাহনসহ অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ভ্যানচালকরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি করছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সচালকরা।
সড়কটির পাশেই রামগঞ্জ সরকারি কলেজ, রামগঞ্জ রাব্বানিয়া কামিল মাদ্রাসা, রামগঞ্জ মডেল কলেজ ও রামগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৬-৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবস্থিত। প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (ওয়ার্ক) মো. সাবের হোসেন জানান, ব্যস্ত সড়ক হওয়ায় কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে, তবে ৮ কিলোমিটারের মধ্যে এই ১ কিলোমিটার সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। রামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আমির হোসেন জানান, ঠিকাদার সংকটের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে ৯১২ মিটার অংশে দ্রুত কাজ চলছে, তবে টানা বৃষ্টির কারণে কাজের গতি কিছুটা কমেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই অংশের কাজ শেষ করার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। পর্যায়ক্রমে পুরো সাড়ে আট কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হবে বলেও জানান তিনি।

















