রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত ২৭ জুলাই সংঘটিত সহিংসতায় মারধরের শিকার শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের বাবা আজাদ উজ জামান বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজশাহীর একটি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে আরও ১৭-১৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির। এছাড়া অন্য আসামিরা হলেন রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব, রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজিব, সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা, আরিফুর ইসলাম, আহসান উল্লাহ ফাইহান, সিফাত আর সালেহ ও নুরুল ইসলাম শহীদ।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অবস্থানকালে সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে ১৯-২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, বেত ও বাঁশের লাঠি দিয়ে ঘিরে ফেলে। প্রধান আসামি সালাহউদ্দিন আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহিনের মাথা ও কপালে আঘাত করেন এবং অন্যান্য আসামিরাও তাকে গুরুতর জখম করেন। এক পর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। স্থানীয় লোকজন ও স্বেচ্ছাসেবীরা তাকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার চেষ্টা করলেও আসামিরা তাকে নামিয়ে পুনরায় মারধর করেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা আজাদ উজ জামান জানান, ঘটনার দিন বিকেলে ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি হামলার বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালে ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২৮ জুলাই মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার নেওয়ার পরামর্শ দেন। থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করায় তিনি পরবর্তীতে আদালতের শরণাপন্ন হন।

















