জাতীয় সংসদে ব্যাংক রেজোলিউশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার এই আলোচনার সময় বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখলে সরকারি দলের সদস্যরা হইচই ও প্রতিবাদের মাধ্যমে সংসদ উত্তপ্ত করে তোলেন। রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন যে, এ সময় তাকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে।
বক্তব্যের সময় রুমিন ফারহানা বলেন, প্রতিটি সরকারের একটি চরিত্র থাকে এবং বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, সারের সংকট ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপি হওয়া ইত্যাদি। রুমিনের এই বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। রুমিন পাল্টা মন্তব্য করেন যে, বর্তমান সংসদ অত্যন্ত অসহিষ্ণু এবং এটি দেখে তার মনে হচ্ছে যেন তিনি আওয়ামী লীগের আমলেই ফিরে গেছেন। তিনি দাবি করেন, এই সংসদের বেশির ভাগ সদস্যই ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত।
নির্ধারিত সময় শেষ হলে রুমিনের মাইক বন্ধ হয়ে যায়, তবে সংসদে হট্টগোল অব্যাহত থাকে। রুমিন মাইক ছাড়াই অভিযোগ করতে থাকেন যে তাকে অশালীন গালি দেওয়া হয়েছে। এ সময় এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদও দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং একজন সংসদ সদস্যকে গালি দেওয়ার ঘটনার নিন্দা করেন। সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিকে সংসদ সদস্যদের শান্ত রাখার অনুরোধ জানান। ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রত্যেক সদস্যের বক্তব্য রাখার স্বাধীনতা আছে এবং বক্তব্যে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে।
পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বিষয়টি নিয়ে বলেন যে, বক্তব্য অসংসদীয় মনে হলে স্পিকার রুলিং দিতে পারেন, কিন্তু এভাবে হট্টগোল কাম্য নয়। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি দাবি করেন যে, রুমিন নিজেই সমস্যা তৈরি করছেন এবং তার মন্তব্যের দিকে নজর রাখা উচিত। বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অপ্রাসঙ্গিক আলোচনার কারণে মূল বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে না। পরবর্তীতে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমের কাছে পুনরায় অভিযোগ করেন যে, তাকে বিএনপির সংসদ সদস্যরা অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন এবং তিনি চিফ হুইপের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

















