ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জাতীয় সংসদে গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট এবং ঋণখেলাপি ইস্যুতে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বুধবার রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে একটি বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে চলা এই অধিবেশনে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সময় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা তুমুল হট্টগোল শুরু করেন।
নিজের বক্তব্যে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সরকারের সমালোচনা করে বলেন, প্রতিটি সরকারেরই একটি চরিত্র থাকে। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, সারের সংকট হবে না বা কৃষক সার কারখানায় গিয়ে লুট করবে না—এমনটা সম্ভব নয়। একই সাথে তিনি দুর্নীতি এবং ঋণখেলাপির বিষয়েও তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করা এবং ছয় লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণ খেলাপি হওয়া।
সংসদে হট্টগোলের মধ্যে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল উপস্থিত সদস্যদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। এ সময় রুমিন ফারহানা সংসদকে ‘অসহিষ্ণু’ বলে আখ্যায়িত করে বলেন, তারা যেন আওয়ামী লীগের আমলের মতো আচরণ করছেন। তিনি আরও যোগ করেন, আগে যখন তিনি আওয়ামী লীগকে বলতেন, তখনও তারা হট্টগোল করত, কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি আরও খারাপ।
সংসদে ঋণখেলাপিদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রুমিন ফারহানা। তিনি দাবি করেন, এই সংসদের বেশিরভাগ সদস্যই ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত এবং নির্বাচনের আগে হাইকোর্টে রিট করে নাম কাটানোর সংস্কৃতি তারা বহুবার দেখেছেন। নির্ধারিত দুই মিনিট সময়ের পর রুমিন ফারহানার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হলেও তিনি মাইক ছাড়াই বক্তব্য চালিয়ে যান, যা সংসদ কক্ষে পুনরায় হট্টগোলের জন্ম দেয়।

















