জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মমতাজ আরা বর্ষাকে আটক করতে গিয়ে র্যাবের অভিযানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক ও প্রশ্ন। তিনি ২০২৩ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন বলে তাঁর দুজন সহপাঠী জানিয়েছেন। বর্তমানে বর্ষা আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরাও তাঁর সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। বর্ষার রুমমেটরা র্যাবের বিরুদ্ধে গালাগালির অভিযোগও করেছেন এবং ঘটনার পর তিনি মেস ছেড়ে চলে গেছেন। রাজধানীর পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকায় সাততলা ভবনের সপ্তম তলার একটি মেসে থাকতেন বর্ষা।
পুলিশের ভাষ্যমতে, ‘জিনে ভর করার’ নাটক সাজিয়ে র্যাবের এক কর্মকর্তার স্ত্রীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ও সোনার গয়না হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ক্যান্টনমেন্ট থানায় ১২ আগস্ট একটি মামলা হয়। এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে বর্ষাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করতে গিয়েছিল র্যাব। মামলার বাদী ওই পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িচালক মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী মাছুরা বেগমকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, জিন ভর করার কথা বলে তারা ১৪ লাখ টাকা ও ১০ ভরি সোনা হাতিয়ে নিয়েছে এবং সেই সোনা বর্ষার কাছে বিক্রি করেছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ৬ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে সাতটার দিকে। ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার কলতাবাজারে বর্ষার মেসে যান প্রথম আলোর প্রতিবেদক। পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকার একটি মেসে সাদাপোশাকে তিনজন ব্যক্তি মাইক্রোবাসে এসে বর্ষাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। মেসের বাসিন্দারা জবির শিক্ষার্থী হওয়ায় তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জকসু নেতাদের খবর দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় থানা পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবি প্রশাসনের দাবি, ওই ব্যক্তিরা শুরুতে পরিচয় দিতে পারেননি এবং তাদের কাছে কোনো নথিপত্র ছিল না। যদিও র্যাব-২–এর পরিচালক ও পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক নয়মুল হাসান দাবি করেছেন, অভিযানে কোনো আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি এবং তারা আসামি ধরতেই গিয়েছিলেন।
বর্ষা পরবর্তীতে দাবি করেছিলেন যে, তাঁর বোনের সাবেক স্বামী র্যাবের আইটি বিভাগে কর্মরত থাকায় ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে র্যাব জানিয়েছে, ওই নামে তাদের বাহিনীতে কেউ কর্মরত আছেন কি না তা সুনির্দিষ্ট পদবি ছাড়া নিশ্চিত করা কঠিন। জবির সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির জানান, ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে বর্ষার কোনো যোগাযোগ হয়নি। আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

















