বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার ‘বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার পর শুক্রবার রাতে দীপকে নৌ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
নৌ পুলিশের এসপি মাসুমা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীপকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাকে উত্তরখান থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু মামলা উত্তরখান থানায় হবে, সেহেতু তাকে সেখানেই বর্তমানে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ গত বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে’ তাহসিফ তার বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।
দীপ বৃহস্পতিবার পিবিআইকে জানিয়েছিলেন, তিনি তাহসিফের সঙ্গে রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকা থেকে আলাদা হয়ে যান।
তবে ঘটনার দিন মধ্যরাত পর্যন্ত তাহসিফের সঙ্গে থাকার আলোচনায় আসার পর বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছিল পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়।
‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করেন দীপ। একপর্যায়ে পিবিআই কর্মকর্তারা তাকে নিয়ে শুক্রবার টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনে যান।
দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে তারা সেখানে অবস্থান করার সময় পুলিশের একটি দল তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় দীপ তুরাগ তীরে স্থাপিত বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে গিয়ে লুকান। আর তাহসিফ নদে গিয়ে ঝাঁপ দেন। এরপর ‘সুযোগ বুঝে’ দীপ সেখান থেকে সরে যান এবং রাত আড়াইটার দিকে নিজের বাসায় ফেরেন।
গভীর রাতে দুজন কেন সেখানে অবস্থান করছিলেন, জানতে চাইলে পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা শুক্রবার বলেন, “আমরা বিষয়টি জেনেছি, এটা একটু সেনসিটিভ। আরেকটু ক্রসচেক করে নিই।” তবে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান দীপের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো শুক্রবার ‘যাচাই করে দেখার’ কথা বলেছিলেন।

















