জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকা জমা দেওয়ার জন্য তৃণমূলকে নির্দেশনা দিয়েছে। বুধবার দুপুরে ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি গঠন ও এনসিপি সমর্থিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্ধারণসংক্রান্ত দিকনির্দেশনায় এই বিষয়টি জানানো হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা কমিটির তত্ত্বাবধানে এবং উপজেলা কমিটির নেতৃত্বে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে। ৩১ থেকে ৫১ সদস্যের কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হিসেবে গণ্য করা হবে। ৩১ জনের কম সদস্য হলে তা আংশিক কমিটি হিসেবে প্রকাশ করতে হবে, তবে সেক্ষেত্রে ন্যূনতম ১১ জন সদস্য থাকতে হবে। এই ধরনের আংশিক কমিটি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে হবে।
দলটি আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, জেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কোনো ধরনের কমিটিতে চলমান শিক্ষার্থীদের রাখা যাবে না। এসব শিক্ষার্থীকে দলের অঙ্গসংগঠন ছাত্রশক্তিতে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, ৩০ বছরের কম বয়সী কাউকে এনসিপির কোনো কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।
ইউনিয়ন কমিটিতে প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে সমতার ভিত্তিতে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি কমিটিতে নারী, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব জনসংখ্যার অনুপাতে নিশ্চিত করার চেষ্টা করার নির্দেশনা রয়েছে।
৩০ বছরের কম বয়সী যারা চলমান শিক্ষার্থী নন, তারা যুবশক্তি, স্বেচ্ছাসেবক শক্তিসহ দলের অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে কাজ করবেন। ইউনিয়ন আহ্বায়ক হওয়ার ন্যূনতম বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সদস্যসচিব হওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়সসীমা ৩০ বছর করা হয়েছে।
এনসিপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নীতিমালা অনুযায়ী, মহানগর ও জেলা কমিটি হবে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট। উপজেলা, পৌরসভা ও থানা কমিটি হবে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট। ইউনিয়ন কমিটি হবে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট এবং ওয়ার্ড কমিটি হবে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট। এছাড়াও, স্থানীয়ভাবে পরিচিত, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য, সৎ, দেশপ্রেমিক, সচ্ছল ও সুশিক্ষিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

















