দেশের পাঁচটি নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র তাদের নিয়মিত বুলেটিনে জানিয়েছে যে, দেশের মোট ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে নয়টি স্টেশনে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ কক্সবাজারে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বুলেটিন অনুযায়ী, বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যান্য নদীর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদের পানি মৌলভীবাজারের মনু রেলসেতু পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদের পানি হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ৪৩টি স্টেশনে পানি কমেছে এবং পাঁচটি স্টেশনে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর; কুশিয়ারা নদীর শেরপুর; সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ; সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ স্টেশনে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে দেশের ভেতরে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে, যার পরিমাণ ২০৩ মিলিমিটার। আগামী কয়েক দিনের সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি এবং নদ-নদীর পানির গতিপ্রকৃতি মূলত উজান ও দেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতার ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

















