সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, জিয়াউর রহমান সেদিন কর্নেল তাহেরের সঙ্গে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে গেলে আর ফিরে আসতে পারতেন না। শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি (রাওয়া) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমানকে উদ্ধারের কৃতিত্ব জাসদের নয়, বরং টু ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি এবং ফোর বেঙ্গল তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল। তৎকালীন কর্নেল মহিউদ্দীন টু ফিল্ডে এই উদ্ধার কার্যক্রমের নেতৃত্বে ছিলেন।
৭ নভেম্বরের ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভোর ৬টার দিকে তিনি টু ফিল্ডে গিয়ে দেখেন জিয়াউর রহমান সেখানে অবস্থান করছেন এবং তার পাশে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ডিএমও লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরউদ্দীন খান রয়েছেন। এর আধা ঘণ্টা পর কর্নেল তাহের গণবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। তাহের জিয়াউর রহমানকে তাদের সঙ্গে বাইরে যেতে এবং সৈনিকদের সামনে ২১ দফা বা ১৭ দফা দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলতে চাপ দেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান তাতে অস্বীকৃতি জানান, কারণ তিনি আগেই রেডিও ও টেলিভিশনে নিজের বক্তব্য পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সাখাওয়াত হোসেনের মতে, জিয়াউর রহমানকে একবার বাইরে নিতে পারলে তিনি আর ফিরে আসতেন না এবং তাহের ও জাসদের একাংশ নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে পারত।
তৎকালীন অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের সময় কর্নেল হুদা কেন পুরো ১০ বেঙ্গল ব্যাটালিয়ন নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেছিলেন, তা আজও একটি বড় রহস্য বলে উল্লেখ করেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জিয়াউর রহমানের সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার প্রশংসা করে বলেন, তিনি হকি মাঠে লোডেড রাইফেলধারী উচ্ছৃঙ্খল সেনাদের সামনে নির্ভয়ে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছিলেন। খালেদ মোশাররফ, কর্নেল হুদা এবং হায়দারকে বাঁচানোর জন্য তিনি নওয়াজেশ উদ্দিনকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া ভারতকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে এসে চীন সফর এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়ে জিয়াউর রহমান স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির সূচনা করেছিলেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, গত ১৫ বছরে সেনাবাহিনীর পেশাদারত্ব ও নৈতিকতা ধ্বংস করা হয়েছে এবং একটি শক্তিশালী দেশ গড়তে সেনাবাহিনীকে পুনরায় চরম পেশাদারত্বে ফিরে আসতে হবে। অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোদাসসের হোসেন খান বীর প্রতীক অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, ড. ইউনূস তড়িঘড়ি করে নির্বাচন দিয়ে জাতির ক্ষতি করেছেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, ডিইউজে সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. আমিনুল করিমসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

















